৩.১ জড়তা এবং বলের ধারণা: নিউটনের প্রথম সূত্র

নিউটনের প্রথম সূত্র : বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে।

বল:যা বস্তুতে ত্বরণ সৃষ্টি করে তাকে বল বলে। যা স্থির বস্তুকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা গতিশীল বস্তুকে স্থির করে বা করতে চায় তাকে বল বলে.

বল একটি ভেক্টর রাশি।বলের একক নিউটন।

মৌলিক বল চার প্রকার। যথাঃ

১.মহাকর্ষ বল।

২.তাড়িতচৌম্বক বল।

৩.সবল নিউক্লীয় বল।

৪.দুর্বল নিউক্লিয় বল।

ভরবেগ: ভোর ও বেগের গুণফলকে ভরবেগ বলা হয়.ভরবেগ একটি ভেক্টর রাশি।যার একক kgms-১

ভরবেগ ,p =mv .

ত্বরণ: বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে v =u +at

ভরবেগের মাত্রা [P ]=M L T -১

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র : বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়োগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।

ধরা যাক ,কোনো একটি বস্তুর আদি বেগ ছিল u এবং t সময় পর সেই বেগ পরিবর্তিত হয়ে v হয়েছে। কাজেই ভরবেগের পরিবর্তন হচ্ছে :

mv -mu

ভরবেগের পরিবর্তনের হার : mv -mu /t =m (v -u )/t =ma

যেহেতু এখানে ধরে নিয়েছি এখানে ভোরের কোনো পরিবর্তন হয়নি এভাবে লিখতে পারি। ত্বরণ a হলে আমরা লিখতে পারি

a =v -u /t

সুতরাং প্রয়োগ করা বল যদি F হয় তাহলে নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র থেকে আমরা লিখতে পারি

F =K ma

F =ma

প্রশ্নঃ ৫ kg ভরের একটি স্থির বস্তুর উপর ১০০ N বল ১০ s পর্যন্ত প্রয়োগ করা হল।

a .বল প্রয়োগ করার কারনে ত্বরণ কত?

b .১০ s পরে বেগ কত ?

c .২০ s পরে ভাগ কত?

d .২০ s সময়ে কতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করেছে

e . বেগ এবং অতিক্রান্ত দূরত্ব গ্রাফ এঁকে দেখাও।

উত্তরঃ (a ) ত্বরণ ,

a =F /m =১০০ N /৫ kg =২০ ms -২

(b ) ১০s পরে বেগ

v =u +at =০+২০*১০ m /s =২০০m /s

(c )১০s পর্যন্ত বল প্রয়োগ করা হয়েছে ,এরপর আর বল প্রয়োগ করা হয় নি। তাই ২০০ m /s পৌঁছনোর পর বেগ অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ ২০ s পরে বেগ ২০০ m /s .

(d ) ২০s অতিক্রান্ত দূরত্ব দুইভাবে বের করতে হবে।,

প্রথম ১০ s অতিক্রান্ত দূরত্ব:

s =ut +১/২ at=১/২*২০*১০ =১০০০ m

দ্বিতীয় ১০s এ অতিক্রান্ত দূরত্ব :

s =vt =২০০*১০=২০০০m

মোট অতিক্রান্ত দূরত্ব :

s =s+s=১০০০+২০০০=৩০০০m =৩km

প্রশ্নঃ স্থির অবস্থা থেকে শুরু করে ১০s এ একটা বস্তু ১০০m দূরত্ব অতিক্রম করাতে ২০N বল দিতে হচ্ছে বস্তুটির ভর কত?

উত্তরঃ s =ut +১/২ at

u =০

a =২s /t =২*১০০/১০=২ m /s

F =ma ; m =F /a =২০/২ =১০kg ..

প্রশ্ন ০১: পাঠ্য বইয়ের সৃজনশীল প্রশ্ন-১

ফারুক ১০ কেজি ভরের একটি বক্স একটি মেঝের উপর দিয়ে সমবলে টেনে নিল। বাক্স আর মেঝের মধ্যকার ঘর্ষণ বলের মান হল ১.৫ N .বাক্সটি টেনে নেওয়ায় এর ত্বরণ হল ০.৮ ms-২ .এরপর বাক্সটি ঘর্ষণবিহীন মেঝেতে একই বল প্রয়োগ করে টানা হল।

ক. সাম্য বল কাকে বলে ?

খ. ঘর্ষণ বল কেন উৎপন্ন হয় ?

গ. প্রথম ক্ষেত্রে বাক্সটির উপর প্রযুক্ত বলের মান নির্ণয় কর ?

ঘ. ঘর্ষণযুক্ত ও ঘর্ষণবিহীন মেজেতে ত্বরণের কীরূপ পরিবর্তন হবে?গাণিতিক ব্যাখ্যা কর।

০১নং প্রশ্নের উত্তর

কোনো বস্তুর উপর একাধিক বল ক্রিয়া করলে যদি বলের লব্দি শূন্য হয় অর্থাৎ বস্তুটি সাম্যাবস্থায় থাকে ,তবে ঐ বলগুলোকে সাম্য বল বলে।

আপাত দৃষ্টিতে কোনো বস্তুর তলকে মসৃন মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এর উপর উঁচু নিচু অনেক খাজ থাকে। যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর উপর দিয়ে গতিশীল হয় তখন উভয় বস্তুর স্পর্শতলের এ খাজগুলো একটির ভিতর আরেকটি ঢুকে যায় অর্থাৎ খাঁজগুলো পরস্পর আটকে যায়। এই উঁচু নিচু খাজ জোট বেশি হবে এবং গভীর হবে অর্থাৎ তল যত বেশি অমসৃণ হবে একটির ভিতর দিয়ে অপরটি তত বেশি ঢুকে যাবে বা আটকে যাবে। এই ঢুকে যাওয়া বা আটকে যাওয়ার কারনে বস্তুদ্বয় স্পৰ্শতলে গতির বিরুদ্ধে ঘর্ষণ বল উৎপন্ন হয়।

দেওয়া আছে ,

বাক্সের ভর =১০ kg

বাক্স ও মেঝের ঘর্ষণ বল ,Fk =১.৫ N

বাক্সটির ত্বরণ = ০.৮ ms-২

ধরি,প্রথম ক্ষেত্রে বাক্সটির উপর প্ৰযুক্ত বল = P

আমরা জানি ,কার্যকর বল ,

F =P -Fk

বা, ma =P -Fk

বা,P =ma +Fk

=১০kg *০.৮ms-২ +১.৫N

=৮N +১.৫N

=৯.৫ N

সুতরাং প্রথম ক্ষেত্রে বাক্সটির উপর প্ৰযুক্ত বলের মান ৯.৫ N .

ঘর্ষণযুক্ত মেঝেতে বাক্স ও মেঝের মধ্যকার ঘর্ষণ বল কাজ করে। এই ঘর্ষণ বল গতির বিরুদ্ধে কাজ করায় বস্তুর ত্বরণের পরিমাণ কম হয়,কিন্তু ঘর্ষণবিহীন মেঝেতে বাক্স ও মেঝের মাঝে কোনো বাধার সৃষ্টি হয় না। ফলে বাক্স ও মেঝের মধ্যকার ঘর্ষণ বল কাজ করে না। এই ঘর্ষণ বল কাজ না করায় প্ৰযুক্ত বলের কারণে ঘর্ষণযুক্ত মেঝের চেয়ে ঘর্ষণমুক্ত মেঝে ত্বরণের পরিমাণ বেশি অর্থাৎ ত্বরণ বৃদ্ধি পাবে। নিচে গাণিতিকভাবে ব্যাখ্যা করা হল-

আমরা জানি , F =ma এখানে, বস্তুর ভর , m = ১০ kg

বা, a = F /m =৯.৬N /১০kg গ নং হতে , প্রযুক্ত বলের মান, F = ৯.৫ N

a = ০.৯৫ ms-২ ঘর্ষণবিহীন মেঝেতে বাক্সের ত্বরণ, a = ?

সুতরাং ঘর্ষণবিহীন মেঝেতে বাক্সের ত্বরণ ০.৯৫ ms-২

আবার ঘর্ষণযুক্ত মেঝেতে বাক্সের ত্বরণ ০.৮ ms-২

যেহেতু, ০.৯৫ ms-২ > ০.৮ ms-২

অর্থাৎ ঘর্ষণবিহীন মেঝেতে ত্বরণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

প্রশ্ন ০২: পাঠ্য বইয়ের সৃজনশীল প্রশ্ন-০২

সরলরৈখিক পথে গতিশীল ৫ kg ভরের একটি বস্তু ৫ m /s বেগে অপর আরেকটি বস্তুকে আঘাত করলে দ্বিতীয় বস্তুটির ভরবেগ ৪ kg m /s পরিমাণ পরিবর্তন করে। এ সংঘর্ষের পর উভয় বস্তুর ভর অপরিবর্তিত থাকে।

ক. পদার্থের কোন ধর্ম জড়তার পরিমাপক ?

খ. প্ৰযুক্ত বল ভরবেগের পরিবর্তনের সমানুপাতিক বলতে কী বুঝ ?

গ. প্রথম বস্তুর শেষ বেগ কত হবে ?
ঘ. যখন ভরবেগের কোনো পরিবর্তন হয় না তখন গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বস্তুটি সম্পর্কে মতামত কর ?

০২ নং প্রশ্নের উত্তর

ক.পদার্থের ভর জড়তার পরিমাপক।

. প্ৰযুক্ত বল ভরবেগের পরিবর্তনের সমানুপাতিক বলতে বুঝায় প্ৰযুক্ত বল এবং এর দরুন অর্জিত ভরবেগের পরিবর্তনের অনুপাত সর্বদা সমান। অর্থাৎ F , F বল প্রয়োগ করে যদি ভরবেগের পরিবর্তন যথাক্রমে P ,Pহয় তবে

F/P =F /P =ধ্রুবক

গ.

আমরা জানি,

p1 = -p2 এখানে, ভর ,m=5kg

mv1-mu1 = -p2 বেগ, u1=5 ms-1

v1 -u1=-p2/m ভরবেগ, p2=4 kgms-1

v1 = -p2/m +u1 =(-4/5 + 5) ms-1= 4.2 ms-1

অতএব,প্রথম বস্তুর শেষবেগ 4.2 ms-1

ঘ.

এখানে , দ্বিতীয় বস্তুটির ভর আদিবেগ এবং শেষবেগ হলে ,

যখন ভরবেগের পরিবর্তন হয় না তখন,

p2=0

বা, m2(v2-u2)=0

বা, v2-u2=0

বা, v2=u2

অর্থাৎ যখন ২য় বস্তুটির ভরবেগের কোনো পরিবর্তন হয় না তখন সেটি তার বেগ অক্ষুন্ন রেখে অবিরাম চলতে থাকবে।

প্রশ্ন ০৩: রাজশাহী বোর্ড ২০২০

1mg ভরেরে 1 ফোটা পানি উপর থেকে বাতাসের বাধা অতিক্রম করে 15ms-1বেগে ভূমিতে পতিত হয়। [ g = 9.8 ms-2 ]

. ভার্নিয়ার ধ্রুবক কাকে বলে?

. পাহাড় থকে নিচে নামা অপেক্ষা পাহাড়ের উপরে উঠা কষ্টকর কেন-বুঝিয়ে লিখ?

. পানির ফোটাটি ভূমিতে পতিত হতে প্রয়োজনীয় সময় নির্ণয় কর।

. গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখাও যে,পানির ফোটাটির ওজন বাতাসের বাধাজনিত বল অপেক্ষা বেশি।

৩নং প্রশ্নের উত্তর

. প্রধান স্কেলের ক্ষুদ্রতম এক ভাগের চেয়ে ভার্নিয়ার স্কেলের ক্ষুদ্রতম একভাগ কতটুকু ছোট তার পরিমাণকে ভার্নিয়ার ধ্রুবক বলে।

. পাহাড় বেয়ে উপরে উঠতে অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়।ফলে অভিকর্ষ বলের বিপরীতে বল প্রয়োগ করে পাহাড়ে উঠতে হয়।তাছাড়া উপরে উঠার সময় প্রতিনিয়ত আরোহীর মধ্যে বিভব শক্তি জমা হতে থাকে। এ কারণে পাহাড় বেয়ে উপরে উঠতে দেহে বেশি ক্লান্তি লাগে। কিন্তু নামার সময় দেহের কোনো বল প্রয়োগ করতে হয় না। এক্ষেত্রে অভিকর্ষ বল দ্বারাই কাজ সম্পাদিত হয়।তাছাড়া নামার সময় দেহের মধ্যে সঞ্চিত বিভব শক্তি কমতে থাকে।ফলে নামার সময় দেহের তত ক্লান্তি লাগে না। এ কারণে পাহাড় থেকে নিচে নামা অপেক্ষা পাহাড়ের উপরে উঠা কষ্টকর।

. ধরি, ফোঁটাটি a ত্বরণে t সময়ে নিচে পতিত হয়।

h=ut+1/2 at2 এখানে, উচ্চতা, h =20 m

বা, 20m=0+1/2 a*t2 আদিবেগ, u=0 ms-1

বা, 20m=1/2 at*t ………….(১) শেষবেগ, v= 15 ms-1

আবার, v=u+at

বা, v=0+at

বা, at=v

At এর মান (১) নং এ বসিয়ে পাই,

20m =1/2 vt

t = (2*20)/v

= (2*20)/15

=2.67 s

অতেব,পানির ফোঁটাটি ভূমিতে পতিত হতে 2.67 s সময় লাগে।

‘গ’ হতে পাই পানির ফোটাটিভূমিতে পতিত হতে প্রয়োজীয় সময় , t =2.67 s

এখন ফোঁটাটি a ত্বরণে নিচে পতিত হলে, এখানে,আদিবেগ, u=0 ms-1

v = u+at শেষবেগ, v=15 ms-1

15 ms-1 =0+a*2.67 s অভিকর্ষজ ত্বরণ, g=9.8 ms-2

a = 15 ms-1/2.67s ফোটাটির ভর, m=1mg=10-3kg

a = 5.625 ms-2

বাতাসের বাধাজনিত ত্বরণ, a’ = g-a

= 9.8 ms-2 -5.625 ms-2

=4.175 ms-2

বাতাসের বাধাজনিত বল, F’ =ma’

= 10-3 kg* 4.175 ms-2

=4.175*10-3N

ফোঁটাটির ওজন, W = mg =10-3kg *9.8 ms-2=9.8*10-3N

গাণিতিকবিশ্লেণ হতে দেখা যাচ্ছে যে, W > F’

অর্থাৎ পানির ফোঁটাটির ওজন বাতাসের বাধাজনিত বল অপেক্ষা বেশি।

প্রশ্ন ০৪:সিলেট বোর্ড ২০২০

একটি 500 kg ভরের গাড়ি স্থির অবস্থান থেকে যাত্রা শুরু করে 50 সেকেন্ডে বেগ 10 মিটার/সেকেন্ড হয়। এ ত্বরণে 1 km চলার পর 6000 kg ভরের একটি স্থির গাড়ির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের পর গাড়ি দুটি একত্রে 9 মিটার/সেকেন্ড বেগে চলতে থাকে।

ক. পড়ন্ত বস্তুর ২য় সূত্রটি লিখ।

খ. গতিশীল বস্তুর অতিক্রান্ত দূরত্ব শূন্য হয় না কিন্তু সরণ শূন্য হতে পারে – ব্যাখ্যা কর।

গ. গাড়িটির ত্বরণ নির্ণয় কর।

ঘ. সংঘর্ষের ফলে গাড়ি দুটির ভরবেগ পরিবর্তন সমান ও বিপরীত না হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ কর।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

পড়ন্ত বস্তুর ২য় সূত্রটি হল-স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে বেগ প্রাপ্ত হয় তা ঐ সময়ের সমানুপাতিক।

আমরা জানি, সরণ হচ্ছে নির্দিষ্ট দিকে বস্তুর অতিক্রান্ত দূরত্ব।এটি বস্তুর আদি ও শেষ অবস্তানের মধ্যে রৈখিক দূরত্ব নির্দেশ করে।ফলে সরণ বস্তুর গতিপথের উপর নির্ভর করে না।অন্যদিকে দূরত্ব হচ্ছে অতিক্রান্ত পথের দৈর্ঘ্য।এটি গতিপ্থের উপর নির্ভর করে।এ কারণে বস্তু বৃত্তাকার পথে সম্পূর্ণ পথ ঘুরে পূর্বের অবস্থানে আসলে এর সরণ শূন্য হয়।কিন্তু এর দূরত্ব হয় বৃত্তাকার পথের পরিধি।

অতেব,বলা যায় ,গতিশীল বস্তুর অতিক্রান্ত দুরত্ব শীন্য হয় না কিন্তু সরণ শূন্য হতে পারে ।

আমরা জানি, এখানে, আদিবেগ, u= 0 ms-1

a = v-u/t শেষবেগ, v= 10 ms-1

=(10-0)/50 সময়, t= 50 s

=0.2 ms-2 ত্বরণ, a= ?

অতএব,উদ্দীপকের গাড়িটির ত্বরণ 0.2 ms-2

এখানে, সংঘর্ষের পর মিলিত বেগ , v’ = 9 ms-1

১ম গাড়ির ভর,m1 = 5000 kg

২য় গাড়ির ভর, m2 = 6000 kg

‘গ’ হতে প্রাপ্ত, ১ম গাড়িটির ত্বরণ, a = 0.2 ms-2

আমরা জানি, এখানে,

v2 = u2+2as আদিবেগ, u = 0 ms-1

বা, v=(0+2*0.2 ms-2 *100m)1/2 দূরত্ব , s = 1km = 1000m

বা, v= 20 ms-1

১ম গাড়িটির ভরবেগের পরিবর্তন,

p1=m1(v-v’)

=5000*(20-9)kgms-1 =55000 kgms-1

২য় গাড়িটির ভরবেগের পরিবর্তন,

P2=m2(v’-0) [২য় গাড়িটি স্থির]

=6000*(9-0)kgms-1 =54000 kgms-1 [এর দিক প্রথম গাড়ির দিকে]

দেখা যাচ্ছে ,

p1≠p2এবং ভরবেগের পরিবর্তন একই দিকে।

এখন,ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্রানুযায়ী গাড়ি দুটির মিলিত বেগ v’’ হলে,

m1u1+m2u2=(m1+m2)v’’

v’’=( m1u1+m2u2)/ (m1+m2)

=100/11 ms-1 = 9.091 ms-1

আবার,সংঘর্ষের পূর্বে মোট গতিশক্তি,

T1=1/2 m1v2+1/2m2*02

=1/2 * 5000kg *(20 ms-1)2=1 *106 J

আবার,সংঘর্ষের পর মোট গতিশক্তি,

T1=1/2 (m1+m2)v’’2

=1/2(5000+6000)kg * (9ms-1)2 =445500 J

এখানে, T1≠T2 অর্থাত,সংঘর্ষটি স্থিতিস্থাপক নয়।

অতেব,উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী গাড়ি দুটির মিলিত বেগ ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্রানুযায়ী প্রাপ্ত গাড়ি দুটির মিলিত বেগের সমান নয় এবং সংঘর্ষটি স্থিতিস্থাপক নয় বলে সংঘর্ষের ফলে গাড়ি দুটির ভরবেগের পরিবর্তন সমান ও বিপরীতমুখী হয়নি।

প্রশ্ন ০৫ঃবরিশাল প্রশ্ন বোর্ড

একজন বাইসাইকেল আরোহী 6 ms-2 ত্বরণে স্থির অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করল। 5 s পর সে ত্বরণ বন্ধ করে দিল।এর 10 s পর 150m দূরে একটি স্পিড ব্রেকার দেখে 3 ms-2 মন্দনে ব্রেক করল।

ক. পিছলানো ঘর্ষণ কাকে বলে?

খ. “গড় বেগ শূন্য হলেও গড় দ্রুতি শূন্য নাও হতে পারে”-ব্যাখ্যা কর।

গ.ব্রেক প্রয়োগ করার পূর্বে সাইকেল আরোহী কত দূরত্ব অতিক্রম করবে?নির্ণয় কর।

ঘ.উদ্দীপকের আলোকে বাইসাইকেলের গতির উপর ঘর্ষণের প্রভাব বিশ্লেষন কর।

৫নং প্রশ্নের উত্তর

একটি বস্তু যখন অন্য একটি বস্তু তথা তলের উপর দিয়ে পিছলিয়ে বা ঘষে চলতে চেষ্টা করে বা চলে তখন যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় তাকে পিছলানো ঘর্ষণ বলে।

নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে কোনো বস্তু নির্দিষ্ট দিকে গড়ে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম ,তাই বস্তুটির গড় বেগ।অন্যদিকে , নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে কোনো বস্তু গড় একক সময়ে কোনো বস্তুর গড় অতিক্রান্ত দূরত্বই তার গড় দ্রুতি।

বেগ একটি ভেক্টর রাশি বিধায় এটি ধনাত্নক ও ঋনাত্নক উভয়ই হতে পারে।ফলে নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে গ্ড় বেগ শূন্য হতে পারে।কিন্তু দ্রুতি একটি অঋনাত্নক রাশি হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট সময় পরিসরে বস্তুটি স্থির অবস্থানে না থাকলে এর মান কখনোই শূন্য হতে পারে না।তাই যে ক্ষেত্রে একটি বস্তুর গড় বেগ শূন্য হয়,সেক্ষেত্রে তার গড় দ্রুতি শূন্য নাও হতে পারে।

সাইকেল আরোহী ব্রেক প্রয়োগ করার পূর্বে ১ম 5 s সমত্বরণে এবং পরবর্তী 10 s সমবেগে চলবে।

১ম 5 s এ অতিক্রান্ত দূরত্ব, এখানে , ১ম সময় , t1 = 5 s

s1=ut+1/2 at2 ২য় সময়, t2 =10 s

= 0+1/2*6ms-2*(5s)2 আদিবেগ, u = 0 ms-1

= 75 m ত্বরণ, a = 6 ms-2

১ম 5 s পর বেগ,

V=u+at1

=0+6 ms-1 * 5s

= 30 ms-1

সাইকেল পরবর্তী 10s এই বেগে চলবে

২য় 10s-এ অতিক্রান্ত দূরত্ব , s2=vt2=30 ms-1 *10 s=300 m

ব্রেক প্রয়োগ সাইকেল আরোহীর অতিক্রান্ত দূরত্ব,

s = s1+s2 =75 m+300m =375 m

গ’হতে পাই,

ব্রেক প্রয়োগ করার মুহুর্তে সাইকেলের বেগ, v=30 ms-1

ব্রেকজনিত মন্দন , a’ = 3 ms-2

স্পিড ব্রেকারের দূরত্ব, s = 150 m

ধরি,ব্রেকের ঘর্ষণের ফলে সাইকেলটি s’ দূরত্ব অতিক্রম করে থেমে যাবে।

02=v2-2.a’s’

বা, s’ =v2/2a’

বা, s’ = (30 ms-1)2/2*3 ms-2

বা, s’= 150 m

দেখা যাচ্ছে , s’=s অর্থাৎ সাইকেলটি স্পিড বেকারের উপর গিয়ে থেমে যাবে ।ফলে আরোহী নিরাপদ থাকবে

অতএব,উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়,বাইসাইকেলের গতির উপর ঘর্ষণের প্রভাব ইতিবাচক।