চাপ কাকে বলে?

একক ক্ষেত্রফলের কোনো বস্তুর উপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বলকে চাপ বলে।

প্যাসকেল কাকে বলে?

প্রতি বর্গমিটারে এক নিউটন বল কে প্যাসকেল বলে।

আয়তন কাকে বলে?

কোন বস্তু যে জায়গা জুড়ে থাকে তাকে এর আয়তন বলে।

ঘনত্ব কাকে বলে?

কোন বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে।

আর্কিমিডিসের নীতি

কোন বস্তুকে স্থির তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরুপে ডুবালে বস্তুুটি কিছু ওজন হারায়। এ হারানো ওজন বস্তুুটি দ্বারা অপসারিত তরল বা বয়ুবীয় পদার্থের ওজনের সমান।

প্যাসকেলের সূত্র

আবদ্ধ পাত্রে তরল বা বায়বীয় পদার্থের কোনো অংশের উপর বাইরে থেকে চাপ প্রয়োগ করলে সেই চাপ কিছু মাত্র না কমে তরল বা বায়বীয় পদার্থের সবদিকে সমানভাবে সঞ্চালিত হয় এবং তরল বা বায়বীয় পদার্থের সংলগ্ন পাত্রের গায়ে লম্বভাবে ক্রিয়া করে।

প্লবতা কাকে বলে?

কোন বস্তুু সম্পূর্ন বা আংশিকভাবে কোন স্থির তরল বা বায়বীয় পদার্থে নিমজ্জিত করলে তরল বা বায়বীয় পদার্থের চাপের জন্য বস্তুু উপরের দিকে যে লব্ধি বল অনুভব করে তাকে প্লাবতা বলে।

বল বৃদ্ধিকরণ নীতি

আবদ্ধ তরল পদার্থের ক্ষুদ্রতম অংশের উপর পিস্টন দ্বারা কোন বল প্রয়োগ করলে, এর বৃহত্তম অংশের পিস্টনগুলোতে সেই বলের বহুগুণ বল প্রযুক্ত হতে পারে। বৃহত্তর পিস্টনের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল ক্ষুদ্রতম পিস্টনের যতগুণ বড় হবে ক্ষুদ্রতর পিস্টনে প্রযুক্ত বল ততগুণ বৃদ্ধি পেয়ে বৃহত্তর পিস্টনে প্রযুক্ত হবে। এই নীতিকেই বল বৃদ্ধিকরণ নীতি বলে।

স্থিতিস্থাপকতা

স্থিতিস্থাপকতা পদার্থের এমন একটি ধর্ম যার জন্য কোন বস্তু বাইরে থেকে প্রযুক্ত বলের ক্রিয়ার ফলে এর আকার বা আয়তন উভয়েরই পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে বাধা দেয় এবং প্রযুক্ত বল অপসারিত হলে পূর্বের আকার বা আয়তন ফিরে পায়, অর্থাৎ সে সব বস্তুতে স্থিতিস্থাপকতা ধর্ম বিদ্যমান তাদেরকে স্থিতিস্থাপক বস্তু (Elastic body) বলে।

স্থিতিস্থাপক সীমা

আমরা জানি, বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করলে এর আকার এবং আকৃতির পরিবর্তন হয়। বল সরিয়ে নিলে বস্তুটি স্থিতিস্থাপক ধর্মের জন্য পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। প্রযুক্ত বলের মান যত বেশি হয়, বস্তু আকার বা আকৃতির পরিবর্তনও তত বেশি হয়। প্রযুক্ত বল ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে এমন এক অবস্থা আসে যখন বস্তুটি আর স্থিতিস্থাপক বস্তুর মতো আচরণ করে না অর্থাৎ প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলেও পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।

কাজেই, প্রত্যেক বস্তু আকার বা আকৃতি পরিবর্তনের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। বস্তু এ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকলেই তা স্থিতিস্থাপক বস্তুর ন্যায় আচারণ করে। আকার বা আকৃতি পরিবর্তনের এ নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পৌছাতে বস্তুর যে পরিমাণ বল প্রয়োগ করতে হয় তাকে স্থিতিস্থাপক সীমা বলে।

বিকৃতি কাকে বলে?

বাইরে থেকে বল প্রয়োগের ফলে কোনো বস্তুর একক মাত্রায় যে পরিবর্তন হয় তাকে বিকৃতি (Strain) বলে।

পীড়ন কাকে বলে?

বাহ্যিক বলের প্রভাবে কোনো বস্তুর মধ্যে বিকৃতির সৃষ্টি হলে স্থিতিস্থাপকতার জন্য বস্তুর ভেতরে একটি প্রতিরোধ বলের উদ্ভব হয়। বস্তুর ভেতর একক ক্ষেত্রফলে লম্বভাবে উদ্ভূত এ প্রতিরোধী বলকে পীড়ন বলে।

হুকের সূত্র

স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে বস্তুর পীড়ন এর বিকৃতির সমানুপাতিক।

পদার্থের প্লাজমা অবস্থা

প্লাজমা হলো অতি উচ্চ তাপমাত্রায় আয়নিত গ্যাস, প্লাজমাকে পদার্থের চতুর্থ অবস্থা বলা হয়। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রগুলোও প্লাজমার উৎস। প্রায় কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্লাজমা অবস্থার উৎপত্তি হয়।

গ্যাসের ন্যায় প্লাজমার কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই। প্লাজমা কণাগুলো তড়িৎ আধান বহন করে তাই প্লাজমা তড়িৎ পরিবাহী হিসেবে কাজ করে। শিল্প কারখানার প্লাজমা টর্চ দিয়ে ধাতব পদার্থ কাটা হয়।

লোহার তৈরি জাহাজ ভাসে কেন?

লোহার খণ্ড দ্বারা অপসারিত পানির ওজন লোহা খণ্ডের ওজনের চেয়ে কম, তাই লোহার টুকরা পানিতে ভাসে না। কিন্তু জাহাজের ভেতরটা ফাঁপা থাকায় লোহার তৈরি হলেও জাহাজ পানিতে ভাসে। কারণ জাহাজ যে আয়তনের পানি অপসারণ করে তার ওজন জাহাজের ওজনের চেয়ে বেশি হয়। এতে জাহাজ পানিতে নামালে প্রথমে ডুবতে শুরু করে। খানিকটা ডুবার পর যখন অপসারিত পানির ওজন জাহাজের ওজনের সমান হয় তখন জাহাজটি ভাসতে থাকে।