জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

সম্পদ: অর্থনীতিতে সম্পদ হলো সেই সমস্ত জিনিস বা দ্রব্য যেগুলো পেতে চাইলে অর্থ ব্যয় করতে হয়। সংক্ষেপে আমরা এ দ্রব্যগুলোকে অর্থনৈতিক দ্রব্যও বলে থাকি।

যেমন: ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ইত্যাদি দৃশ্যমান বস্তুগত সম্পদ এবং ডাক্তারের সেবা, শিক্ষকের পাঠদান ইত্যাদি অদৃশ্যমান বা অবস্তুগত সম্পদ। উল্লিখিত জিনিসগুলো পেতে চাইলে অর্থ ব্যয করতে হবে।

কোনো জিনিসকে যদি অর্থনীতিতে সম্পদ বলতে হয় তবে তার চারটি বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক।
বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  1. উপযোগ
  2. অপ্রাচুর্যতা
  3. হস্তান্তরযোগ্য
  4. বাহ্যিকতা

জাতীয় সম্পদ: রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পদ এবং সমাজের সমষ্টিগত সম্পদকে একত্রে জাতীয় সম্পদ বলে। তাছাড়া জাতির কোনো গুণবাচক বৈশিষ্ট্য যেমন, কর্মদক্ষতা, উদ্ভাবনী শক্তি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ইত্যাদি সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। কোনো কোনো সম্পদ আছে, যা বিশেষ কোনো রাষ্ট্রের মালিকানাধীন নয়। তাই সকল জাতিই সেগুলো ভোগ করতে পারে। এগুলো আন্তর্জাতিক সম্পদ।

মোট উৎপাদিত সম্পদের অর্থমূল্য কীভাবে উৎপাদনের উপাদানগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়, তার নির্ভর করে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বা economic system এর উপর। বর্তমানে বিশ্বে চার ধরণের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কার্যকর আছেঃ ধনতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, মিশ্র ও ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

যে ব্যবস্থা বা কাঠামোর আওতায় উৎপাদনের উপাদানসমূহের মালিকানা নির্ধারিত হয় এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া, উৎপাদিত সম্পপদের বণ্টন ও ভোগ প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলে।

উল্লেখযোগ্য ৪টি অর্থব্যাবস্তা হল -

ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা (Capitalistic Economy System): যে অর্থনীতি ব্যবস্থায় উৎপাদন উপকরণগুলো ব্যক্তি মালিকায় থাকে, এবং সরকারি হস্তক্ষেপ বিহীন অবাধ দাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাজার পরিচালিত হয়, তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থনীতি বা পুঁজিবাদী অর্থনীতি বলে।এখানে প্রত্যেক ব্যক্তির উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে।এ ধরনের অর্থব্যবস্থাকে অবাধ বা মুক্ত অর্থনীতিও বলে।

সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা: এই অর্থনৈতিক কাঠামোর অধীনে উৎপাদন যাবতীয় উপকরণের ক্ষমতা সরকার বা শাসকের কাছে কেন্দ্রীভূত থাকে।বিভিন্ন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত যেমন কোন পণ্য উৎপাদন করতে হবে, কতটা উৎপাদন করতে হবে এবং এর দাম কি হবে, সব কেন্দ্রীয় ক্ষমতা দ্বারা নির্ধারিত হয়।

মিশ্র অর্থব্যবস্থা: ধনতন্ত্র ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির সংমিশ্রণ ঘটে। কিছু সম্পদ ব্যক্তি মালিকানায় এবং কিছু সম্পদ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে।

ইসলামি অর্থব্যবস্থা: যে অর্থব্যবস্থা কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী পরিচালিত হয় তাই ইসলামি অর্থব্যবস্থা। এ অর্থব্যবস্থায় অর্থনৈতিক কার্যাবলির মৌলিক নীতিমালা স্থির হয় ইসলামের ৫টি মূলস্তম্ভ, পবিত্র কুরআনের নির্দেশনাবলি ও রাসুল (স)-এর হাদিসের বিধান অনুসারে।

বাংলাদেশে প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা: বাংলাদেশের অর্থনীতি মিশ্র অর্থনীতি। দেশে উৎপাদন ও বণ্টন প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান রয়েছে।